জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী ব্যবসায়িকে স্বপরিবারে হত্যার হুমকী
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরে কাতার প্রবাসী ব্যবসায়িকে স্বপরিবারে হত্যার হুমকী দিয়েছে কাজী মাকছুদ নামের এক ঠিকাদার। এর আগে কাজী মাকছুদ কাতার প্রবাসী মোঃ সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া ছেলে শাহী কাননের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে বলে ভুক্তভোগী প্রবাসী ব্যবসায়ি অভিযোগ করেছেন।
সোমবার লক্ষ্মীপুর শহরের বাগবাড়িস্থ একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী ব্যবসায়ি ও লক্ষ্মীপুর পৌর সভার ১০ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, গত কিছুদিন আগে তার ছেলে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচ এসসি পরীক্ষার্থী শাহী কানন ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ফাতেমা তুজ জোহরা এবং ঠিকাদার ও সাংবাদিক কাজী মাকসুদের মেয়ে হিয়ামনির মধ্যে কাজী মাকছুদ ও তার স্ত্রী এবং ভাগিনা মেহেরাজের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিযের পর তারা তাদের কক্স বাজার পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে কাজী মাকছুদ সদর থানায় মেয়ের জামতা শাহী কানন ও তার মায়ের বিরুদ্ধে মেযেকে অপহরনের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
সদর থানা পুলিশ শাহী কানন ও হিযা মনিকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করলে হিয়ামণি আদালতে ২২ ধারায় জবান বন্দিতে জানান তাকে অপহরণ করা হয়নি। প্রেমের সূত্রধরে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন।
পরবর্তীতে আদালত কথিত অপহরণ মামরার আসামী হিয়ামণির স্বামী শাহী কাননকে জামিনে মুক্তিদেন। এদিকে স্ত্রী ও ছেরের বিরুদ্ধে কথিত অপহরণ মামলার খবর পেযে মোঃ সেলিম উদ্দিন দেশে এসে স্ত্রী ও ছেলেকে জামিনে মুক্ত করার পর থেকে বে পরোয়া হয়ে উঠেন কাজী মাকছুদ ও তার অনুগতরা। বর্তমানে প্রবাসী ব্যবসায়ি মোঃ সেলিম উদ্দিন স্বপরিবারে জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
সংবাদ সম্মেলন ব্যবসায়ি মোঃ সেলিম উদ্দিন আরো জানান,গত ৫/৬ মাস আগে কাজী মাকসুদ, তার স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা ও তার ভাগিনা মেহরাজ সহ তার অনুগতরা আমার লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে শাহী কাননকে জোর পূর্বক অপহরণ করে তাদের হ্যাপী রোডের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার ছেলেকে নানাভাবে শারিরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে। পরবর্তীতে আমার ছেলের নিকট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার আশ্বাসে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেয় তারা। পরবর্তীতে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আমার ছেলে এবং আমার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে কোন সুবিধা করতে না পেরে তার মেয়েকে আমার ছেলের পিছনে লেলিয়ে দেয়।
গত ১লা এপ্রিল সকালে তার মেয়ে হিয়া মনিকে সুপরিকল্পিতভাবে আমার বাসার নিচে পাঠিয়ে দিয়ে আমার ছেলেকে অপহরণের জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। প্রায় ৩ঘন্টা অপেক্ষার পর আমার ছেলের নাম্বারে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফোন করে বাসার নিচে নামিয়ে কাজী মাকসুদ ও তার ভাগিনা মেহরাজসহ আমার ছেলেকে নিয়ে চলে যায়। যা আমার বাসার সিসি টিভি ক্যামেরায় রেকর্ড করা আছে। পরবর্তীতে আমার ছেলেকে ও তার মেয়েকে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে সে উল্টো তার মেয়েকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আমার ছেলে ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করে দেয় এবং আমার ছেলেকে কক্সবাজার থেকে আটক করে।
প্রবাসী সেলিম আরো বলেন, আমার ছেলেকে আমার বাসার সামনে থেকে নিয়ে কক্সবাজার পাঠানোর আগেই আমার ছেলের সাথে থাকা মোবাইল ফোন তারা নিয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে আমার ছেলে কাজী মাকসুদের মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার আছে পুলিশ এটা কিভাবে জনলো? অবশ্যই কাজী মাকসুদ বলছে যে তারা কক্সবাজার আছে। ঘটনা শুনে আমি সাথে সাথে কাতার থেকে বাংলাদেশে চলে আসি।
সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কাজী মাকসুদ এক সময় দিনে এনে দিনে খেতে পারত না। অথচ আওয়ামীলীগের সময় নিজেকে বড় আওয়ামীলীগের নেতা দাবী করে লক্ষ লক্ষ টাকা অনৈতিকভাবে উপার্জন করে। এছাড়াও সে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ঐ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়ে মনিকা দাসকে তুলে এনে জোর পূর্বক বিয়ে করে। পরে তার নাম দেয় ফাতেমা তুজ জোহরা। ফাতেমা তুজ জোহরা বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও আমার অসহায় পরিবারকে কাজী মাকছুদ বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। বর্তমানে ব্যবসায়ি পরিবারটি চরম নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন।
তারা এ ব্যাপারে সরকার ও আইনশৃংখলাবাহিনীর সহায়তা কামনা করেছেন।

৩৪.৫২°সে