কুমিল্লায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৪জনের দাফন সম্পন্ন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
ঈদ ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরার পথে লক্ষ্মীপুর সদরের তিতারকান্দি এলাকার বাসিন্দা একই পরিবারের চারজনসহ ৫জনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ ও নির্বাক হয়ে পড়েছেন পরিবারে স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। আত্মীয়-স্বজনরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও থামছে না স্বজনহারা পরিবারের কান্না। একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা যেন পাগলপ্রায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় মাইক্রোবাস ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দূর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার জুমআর নামাজের পর হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তিতার কান্দি গ্রামরর পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে।
জানা যায়, রাজধানীতে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন মুফতি আব্দুল মমিন। ঈদের ছুটি শেষে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি এলাকার শশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী ও তিন সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে গেল শেষ যাত্রা। আবদুল মমিনের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি হলেও বিয়ের পর থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শশুর বাড়িতে থাকতেন আবদুল মমিন।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী- দুইসন্তানসহ প্রাণ হারান তিনি। মারা যান তার গাড়ি চালক জামাল উদ্দিনও। নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার চরশাহীর তিতারকান্দির এলাকার আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭), মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেন (৫২)। চালকের বাড়ি বরিশাল জেলায়।দুর্ঘটনায় আব্দুল মমিনের আরেক ছেলে আবরার (১২) গুরুতর আহত হয়ে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তাদের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছলে তৈরি হয় হৃদয় বিদারকের ঘটনা। এতে করে পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কোনভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নিতে পারছেনা পরিবার। আত্মীয়-স্বজনরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও থামছে না স্বজনহারা পরিবারের কান্না। একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা যেন পাগলপ্রায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। এদিকে জুমার নামাজের পর জানাযা শেষে সবাইকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
নিহত মুফতি মমিনের স্বজনরা বলেন, পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মমিন ছিলেন বড়। এর আগে তার আরও দুই ভাই মারা গেছেন। তিনি মোহাম্মদপুরে একটি মাদরাসা পরিচালনা করতেন। তাদের সবাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। এ মৃত্যু কোনভাবে মেনে নিতে পারছিনা। সড়কে আর কত মৃত্যু হলে প্রশাসনের টনক নড়বে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। মুফতি মমিন ছিলেন এলাকার নম্র-ভদ্র স্বভাবের। পাশাপাশি গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁতেন তিনি। তার ও পরিবারের এমন মৃত্যু কোনভাবে মেনে নেয়া যায়না।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন. এটি একটি মর্মান্তিক দূর্ঘটনা। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর ক্ষোভ শোক প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

২৯.৯৬°সে