লক্ষ্মীপুরে ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে ট্রাফিক কনস্টেবলের আত্নহত্যা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরে ঘুমন্ত ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিস কনস্টেবল নাছির আহমদের আত্ন হত্যা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নাছির ঘুমন্ত অবস্থায় তার ছেলে কলেজছাত্র ইমরান আহমেদ কুপিয়ে আহত করে। এর মধ্যে স্বপন ও ইমরান সহ দুইজনের অবস্থায় আশংকাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একপর্যায়ে সে উলঙ্গ অবস্থায় বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন তাকে লুঙ্গি পড়িয়ে দিতে যায়। এসময় স্বপনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাদেরকে রক্ষা করতে গেলে ওই বাড়ির অপর ভাড়াটিয়া এবং ট্রান্সকম ইলেকট্রিক কোম্পানীর সেলস অফিসার নাসিরকেও কুপিয়ে আহত করে । আহত স্বপন বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়ির মৃত গোলাম রহমানের ছেলে এবং লক্ষ্মীপুরের সংবাদপত্র এজেন্ট মেসার্স গোলাম রহমানের স্বত্বাধিকারি। ও অপর আহত নাছির এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া ট্রান্সকম ইলেকট্রিক কোম্পানীর সেলস অফিসার।
নিহত কনস্টেবল নাছির চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। সপরিবারে তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে এই বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নাছির ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। গেল বছর আগস্টে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। বড় ছেলেকে নিয়ে নাছিরের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। গত রাতে ইমরান ও তার বাবা বাসায় ছিলেন। এরমধ্যে নাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে ছেলে এমরান অসুস্থ বাবাকে ওষুধ এনে খাওয়ান।
সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল নাছির। একপর্যায়ে ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে আসলে প্রতিবেশী ও সংবাদপত্র এজেন্ট স্বপন তাকে লুঙ্গি পড়িয়ে দিতে যায়। এসময় নাছির দা দিয়ে স্বপনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। ঘটনাটি দেখতে পেয়েট্রান্সকম ইলেকট্রিক কোম্পানীর সেলস ম্যানেজার নাছির তাদেরকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে কনস্টেবল নাছির তাকেও কুপিয়ে আহত করে। পরে অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক কনস্টেবল নাসির ভাড়া ভবনের ৩ তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্ন হত্যার চেস্টা করেন। এ সময় সে গুরুতর ভাবে আহত হয়। উপস্থিত লোকজন তাকেসহ আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক কনস্টেবল নাছির মারা যায়। আহত স্বপন ও ইমরানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে। অপর আহত নাছির সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, আহত অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতাল আনা হয়। এরমধ্যে কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আহত অন্যদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

৩৬.৫৫°সে