সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের ৫ জনসহ ৬ জন নিহত
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
সৌদী আরবের আবহা প্রদেশে রবিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের তিন শিশু সহ একই পরিবারের ৩ শিশু সহ ৫ জন সহ ৬ জন নিহত হয়েছে।
জানাযায়, প্রবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে আবহা প্রদেশে রবিবার গভীর রাত ৩টায় সড়ক দূর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের একই পরিবারের দুই শিশু সহ ৪ জন সহ ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত ও গুরুতর আহত ওই পরিবারের মেঝো মেয়ে ফাইজা (১১) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারাগেছে। নিহতরা হলেন সৌদি প্রবাসী ও হোটেল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ফাইজা (১১) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) নিহত হন। তাদের মৃত্যুতে নিহতদের পরিবার সহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে ও তার পুত্রবধু এবং তিন নাতনী। নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নিহত ড্রাইভার একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।
এদিকে একই ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুত্ব আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারাগেছে নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
বাহারুল আলম জানান, মিজান সৌদি প্রবাসী আবহা প্রদেশে তার হোটেল ব্যবসা রয়েছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকেসে স্ত্রী সন্তানদের বেড়ানোর জন্য সৌদী আরব নিয়ে যান।
৫দিন আগে প্রতিবেশী সৌদী প্রবাসী ড্রাইভার মোঃ জিলানী বাবরের মাইক্রো বাসে করে ওমরাহ পালন করতে যান। ৫দিন আগে ওমরাহ’র উদ্দেশ্যে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে মাইক্রো বাসে করে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। বাংলাদেশ সময় রাত ৩ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পাশ্ববর্তী গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা প্রথমে মিজানসহ ঘটনাস্থলে ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাগেছেন বলে জানতে পেরেছেন।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে ৬ জন মারা গেছে শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরণের সহযোগীতা করবো।

২৯.৯৬°সে