লক্ষ্মীপুরের নন্দীগ্রামে সাবেক স্বামীর বাড়িতে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর হামলা ও লুট
স্টাফ রিপোর্টার:
লক্ষ্মীপুরের নন্দীগ্রামে প্রবাস ফেরৎ সাবেক স্বামী আলমগীর হোসেন নতুন করে বিয়ে করেছেন এমন সংবাদ পেয়ে তালাকপ্রাপ্তা সাবেক স্ত্রী ও তার স্বজনরা স্বামীর বাড়িতে নারকীয় হামলা চালিয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি দুপুরে তালাকপ্রাপ্তা সাবেক স্ত্রী পারভীন আক্তারের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এ সময় হামলাকারিরা আলমগীরের বসত ঘর থেকে নগদ দুই লাখ টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, আইফোন, জমির দলিল, পার্সপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র সহ মুল্যবান সব মালামাল নিয়েগেছে। এ সময় তারা আলমগীরকে তার বসত ঘরের একটি কক্ষে আটকিয়ে রেখে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে। উপস্থিত লোকজন ওই কক্ষের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার ও মারাত্বক আহত অবস্থায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।এ ব্যাপারে আলমগীর হেসেন বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সরো জমিনে তদন্ত করে সত্যতা পেয়েও কার্যত কেন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানাগেছে।
হামলায় নেতৃত্বদানকারি সাবেক স্ত্রী পারভীন আক্তার নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার ছোবহানপুর গ্রামের সাজুনি বাড়ির সফি উল্যার মেয়ে বলে জানাগেছে।জানাযায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নন্দীগ্রামের
নুর মিয়ার পুত্র প্রবাসী আলমগীরের সাথে পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার চোবহানপুর গ্রামের সাজুনি বাড়ির সফিউল্যার একমাত্র মেয়ের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সে তার উপার্জিত সকল অর্থ স্ত্রী পারভীনের কাছে প্রেরণ করতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ে জন্মনেয়। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে স্ত্রী পারভীন স্বামীর অবাধ্য হয়ে যায় এবং অন্য লোকের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে সে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সে স্বামীর বাড়ি থেকে চলেযায়। যার কারনে স্বামী আলমগীর স্ত্রী পারভীনকে বিগত ২৩ সালের ৩০ অক্টোবর তালাক প্রদান করে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের স্বজনদের মধ্যস্থতায় আলমগীর তালাক প্রত্যাহার করে পারভীনকে আবারো স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং স্ত্রী পারভীন উপস্থিত শালিশে একটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত সরবাক্ষর করে স্বামীর বাড়ি থেকে নেওয়া টাকা ও স্বর্ণের একটি অংশ ফেরৎ দিবে মর্মে অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে তা ফেরৎ দেয়নি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ চলতে থাকে।
আলমগীর বাড়িতে থাকলেও স্ত্রী পারভীন পিত্রালয়ে অবস্থান করতে থাকে। তাকে নিজ বাড়িতে ফেরাতে আলমগীর নানা ভাবে চেস্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত বছর ৩০ নভেম্বর স্ত্রী পারভীনকে দ্বিতীয় বারের মত তালাকদেন। গত ১২ জানুয়ারি স্বামী আলমগীর অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ সংবাদ শুনে পারভীন তার সহোদর ভাই, চাচাতো ভাই হ্রুনুর রশিদ, চাচাতো বোনের জামাই সোহেল ও নিজের সন্তানদের সাথে নিয়ে পরদিন ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং দুপুরে আকস্মিক আলমগীরের বাড়িতে এসে অতর্কিত ভাবে আলমগীরের উপর হামলা ও ঘরে থাকা নগদ টাকা স্বর্ণালংকার সহ মুল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় তারা আলমগীরকে ঘরের একটি কক্ষে আটকিয়ে রেখে প্রানে হত্যার চেষ্টা চালায়। উপস্থিত লোকজন তাকে হামলাকারিদের হাত থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে আলমগীরের পক্ষ থেকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি রিখিত অভিযোগ করলে থানার এসআই মোশারফ হোসেন সরোজমিনে গিয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা মোশারফ জানান,আসামীরা থানায় আসতে অস্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে তার কিছুই করার নেই।
এ দিকে বাদী আলমগীর জানান, আসামীরা তাকে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকী দেওয়ায় তিনি নিজ বাড়িতেও ফিরতে পারছেননা। তিনি বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ ব্যাপারে তিনি আইন প্রয়োগকারি সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

২৮.৬৮°সে