লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুর শহরের উপকন্ঠে ওয়ে হাউজিং কোম্পানীর নিয়ম বহির্ভূত বহুতল ভবনের ফাইলিংয়ের কারণে লক্ষ্মীপুর-সরকারী মহিলা কলেজ সড়কের শাখাঁরীপাড়া মোড় এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, দোকান, বাড়ি ও কবরস্খান সহ বিশাল অংশে ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আশপাশের ভবনগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঘটনায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে কয়েকশ পরিবারের রান্নাবান্না অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রকৌশলী জুলফিকার জুয়েল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে রাত ২ টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার শাখারি পাড়া সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানায়, লক্ষ্মীপুর-সরকারী মহিলা কলেজ সড়কের শাখাঁরী পাড়া মোড় এলাকায় ওয়ে হাউজিং কোম্পানীর নিয়ম বহির্ভূত বহুতল ভবনের ফাইলিংয়ের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া সড়কের বিশাল অংশ ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হাউজিংয়ের অনিয়ন্ত্রিত ফাইলিংয়ের কারণে মাটির তলদেশ পানির স্তর সৃষ্টি হয়। ভেক্যু দিয়ে সম্প্রতি প্রায় ৩০ ফুট মাটি খুড়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলো হাউজিং কোম্পানী। এতে মাটির তলদেশে মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে পানির চাপ বেড়ে রাস্তা দেবে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাশের দুটি দোকান ভেঙে গেছে। ফলে আশপাশের ভবন ঝুকিঁতে রয়েছে। এতে করে আতংকিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তবাংলা আইন পরিষদের সদস্য মরহুম আব্দুল হাকিম উকিলের কবরস্থান ভেঙে যায়। দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে আরো বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
ওয়ে হাউজিংয়ের এজিএম হাসান আহমেদ বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ীই কাজ করছি। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে। ভবনটি ১০ তলা করবো। পৌরসভা থেকে ৭ তলার অনুমোদন রয়েছে। আপাতত ওই ৭ তলা ভবনই হবে। সড়ক ও দোকান মালিকদের ক্ষতিপূরণ আমরা দিয়ে দেবো। সড়কের যেন বেশি ক্ষতি না হয়। সেজন্য ইতিমধ্যে মাটি ফেলে ব্যবস্থা নিয়েছি। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন সচল থাকে,সেটা নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জুয়েল বলেন ওয়ে হাউজিংকে ৭ তলা ভবনের অনুমতি দিয়েছি। তারা ১০ তলা ভবনের অনুমতি নিয়েছে কি না তা আমাদের জানা নেই। ফাইলিং নিয়ম অনুযায়ীই চলছিল। কিন্তু পাশেই পুকুর থাকায় মাটির নিচ দিয়ে পানির স্তর পেয়ে যায়। যার কারণে সড়কটি দেবে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে সড়ক আর ড্রেনের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।ক্ষতিপূরণ ও সড়ক সংস্কার শেষ হলেই কাজের অনুমতি দেওয়া হবে। আপাতত সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

৩০.২৫°সে