• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
Headline
লক্ষ্মীপুরে মৃত্যুর আগে সেজো ছেলেকে জমি লিখে দেওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে বাবার কবর খুঁড়ে লাশ তুলে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে প্রবাস ফেরৎ বড় ছেলে লক্ষ্মীপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার উদ্বোধন ও আলোচনা সভা লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী ছেলের কাছে ঔষধ কেনার জন্য ৫শ টাকা দাবী করায় খাবার দেওয়া বন্ধ জোটেছে মারধর চন্দ্রগজের কুশাখালীতে বিএনপি নেতা ফিরোজের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শহীদ দেড় বছরে ড্রাম্পট্রাকের ছাপায় নিহত ১৩ লক্ষ্মীপুরে ড্রাম্পট্রাক ও ফিটনেস বিহীন যান জব্দের দাবিতে মানববন্ধন সৌদী আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই ভাইয়ের মৃত্যু বেগমগঞ্জে কভার্ডভ্যান- সিএনজি অটো রিকসা মুখোমুখি সংঘর্ষে আলিম পরীক্ষার্থী নিহত আহত-৪ লক্ষ্মীপুরের মান্দারিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি জবর দখল লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাদাবি ও অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকীর সংবাদটি সত্যনয় দাবি ইট ভাটার মালিকের

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা মেয়ে সহ ৪জনকে কুপিয়ে হত্যা। গণপিটুনিতে আহত ঘাতকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

Reporter Name / ১৫০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা মেয়ে সহ ৪জনকে কুপিয়ে হত্যা। গণপিটুনিতে আহত ঘাতকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের উপকন্ঠে ভাড়া বাসায় দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত মেজ মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জে পৌঁছালে সেও মারাযায় বলে নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানাগেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড দেনায়েত পুর গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন মা শাহিনুর(৪০), বড় মেয়ে সায়মা (২২)। মেজো মেয়ে রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ইকরা (১৯)।ছোট মেয়ে শিফা (৯) নিহতদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার লাটিয়া গ্রামে। এ গ্রামের মৃত হকার কামালের স্ত্রী ও কন্যা বলে জানাগেছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জহির হোসেন(১৭) নামের এক হকার যুবককে উপস্থিত জনতা নিহতদের বাসার ভিতর থেকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে মর্মুষ অবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। পথিমধ্যে সেও মারাযায়। ঘাতক জহির হোসেন একই ভবনের সাবেক ভাড়াটিয়া সে রায়পুর শহরে হকারি করে ফল বিক্রি করতেন বলে স্থানীযরা জানান। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় বলে জানাগেছে। তবে কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সাথে অন্য আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক সাংবাদিকদের নিকট ৫ জন নিহতের কথা স্বীকার করে বলেন, এ হত্যা কান্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।
পুলিশ ঘটনার মুল কারণ উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রেম ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করছেন প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। তারা জানান, ৭/৮ মাস আগে জহির হোসেন বাসা ছেড়ে গেলেও প্রায়ই নিহতদের বাসায় আসা যাওয়া করত।

ঘাতক জহিরকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ।
স্থানীয়রা জানান, হকার কামাল হোসেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে রায়পুর শহরের এ বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং রায়পুরে হকারি করে জীবন যাপন করতেন। ২০১৯ সালে হকারি করতে গিয়ে রায়পুর উপজেলার কেরোযা গ্রামে বিদ্যুতের ছেড়া তারে জড়িয়ে মারাযান।কামাল হোসেনের মৃত্যু হলে তার স্ত্রী ৩ কন্যা ও একপুত্র জুনায়েত ইসলাম শিফাতকে নিয়ে একই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।তার একমাত্র পুত্র জুনায়েত ইসলাম শিফাত রায়পুর শহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয় মানুষের সহযোগীতায় সে মেয়েদের পড়া লেখা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানাগেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের মরদেহ সদর হাসপাতালে রয়েছে। এদের মধ্যে ১জন মা ও তার 2 মেয়ে। অপরজন ঘাতক হিসেবে জনতা আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিহতদের মধ্যে আহত ১ মেয়ে ইকরাকে ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকার কাছাকাছি পৌঁছালে সে পথিমধ্যে মারাযায়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়ে জনতা পুলিশে সোপর্দ করার পর পুলিশ তাকে রায়পুর হাসপাতালে নিয়েগেলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পথিমধ্যে সেও মারাযায়।
এ দিকে নিহত বড় মেয়ে সায়মা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় সে বাসাতেই অবস্থান করতো বলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজমী নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বলে প্রচার করা হলেও তথ্যটি সঠিক নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা