
১৮ মাসের কাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের কাজ কখন শেষ হবে কেউ জানেনা

oplus_131072
লক্ষ্মীপুর,
মাত্র ১৮ মাসে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবনের কাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি। কবে এবং কখন এই ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে তা জানে না নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ভবনের মালিক লক্ষ্মীপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ। অথচ এই ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় থমকে আছে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ। আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে জেলার ১৮ লাখ মানুষ।
ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করে হাসপাতলটিতে ২৫০ শয্যা চালু করার জন্য লক্ষ্মীপুরবাসী বারবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, আল্টিমেটাম দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা বলে জানাগেছে।
জানা যায়, ২০১৮ সালের জুনে ৩৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ৯ তলা বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২০ সালেই এটি হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে,তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রুপালি জিএম অ্যান্ড সন্স’ নির্মাণ কাজটির ঠিকাদার মনোনীত হয়। কিন্তু ঠকাদারি প্রতিষ্ঠানটি যথা সময়ে কাজটি সম্পন্ন না করে বারবার সময় এ টাকা বাড়িয়ে নিয়েও কাজ শেষ করেনি প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ইস্কান্দার মীর্জা শামীম। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখেই লাপাত্তা হয়ে গেছেন ঠিকাদার ইস্কান্দার মির্জা শামীম। সেই থেকেই ভবনটির নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।, চারদিকে ঝোপঝাড় আর আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার এ বহুতল ভবন।
এ দিকে ভবনের অভাবে লক্ষ্মীপুরবাসীর কাঙ্ক্ষিত ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানাগেছে।ভবনের অভাবে বর্তমানে পুরাতন ঝরাজীর্ণ ভবনের বারান্দা ও মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দা এমনকি লেট্রিনে যাতায়াতের পথে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অরুপ পাল জানান ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন শত রোগী ভর্তি রেখে ও বহিঃ বিভাগে সাত থেকে আটশ রোগীকে চিকিৎসা দিতে। স্থানের পাশাপাশি রয়েছে চিকিৎসক সহ বিভিন্ন বিভাগে জনবল শংকটও।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মেঝে আর নোংরা বারান্দাই এখন রোগীদের শেষ আশ্রয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থার বেহাল দশায় উৎকট গন্ধে টেকা দায়। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ছাপিয়ে রোগীদের ভিড় এখন সিঁড়ির গোড়া পর্যন্ত। মিজান নামের এক রোগীর স্বজন মোঃ খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কি মানুষ না? আট বছর ধরে শুনছি নতুন ভবন হবে, কিন্তু হচ্ছে না। “সরকার আসে, সরকার যায় আমাদের দুর্ভোগের শেষ কোথায়?”
নির্মাণকাজে এমন ভয়াবহ দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, করোনাকালে সরকার এই প্রকল্প থেকে ৮ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ায় কাজ থমকে গিয়েছিল। তবে ভবনটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।ঠিকাদার পালিয়ে যাওযায় কাজ শেষ করা যায়নি।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান,নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামী এক বছরের মধ্যে বাকি ২০ শতাংশ কাজ শেষ করা যাবে। লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন জানিয়েছেন, ভবন প্রস্তুত হলেও জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা। জনবল নিয়োগ না হলে চাইলেই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা যাবেনা। বর্তমানে ১০০ শয্যার জন্য বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে হাসপাতালটি চালিয়ে নিতে গিযে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভবন পেলেই হবে না, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ না দিলে সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব।”
সচেতন মহলের মতে গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক ঠিকাদারদের যোগসাজশেই প্রকল্পটি আজ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বর্তমান সরকারের সময় দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে লক্ষ্মীপুরবাসীর ‘হাসপাতাল যন্ত্রণা’র অবসান কি? না আবারও নতুন ঠিকাদারের টেন্ডার আর আমলা তান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি হয়ে থাকবে ২০ লাখ মানুষের স্বপ্নের স্বাস্থ্য সেবা? আশ্বাস আর মেয়াদের চক্র থেকে বেরিয়ে এই ভবনটি কবে মানুষের সেবায় উন্মুক্ত হবে সেই প্রশ্নই এখন লক্ষ্মীপুরবাসীর/