২০ লাখ টাকা পূঁজি দিয়ে কোটি টাকার খামার গড়লেন লক্ষ্মীপুরের লিটন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন লক্ষ্মীপুরের লাহারকান্দি এলাকার তরুণ কামরুজ্জামান লিটন। মাত্র ২০ লাখ টাকা পূঁজি নিয়ে শুরু করা গরুর খামার এখন কোটি টাকার খামারে উন্নীত হয়েছে।
লিটনের স্বপ্ন আজ বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ব্রাদার্স এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্ম’ এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের গরু।
সরেজমিনে লাহারকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি করে সাজানো লিটনের খামারে দুধের গাভীসহ ছোট-বড় প্রায় ৭০টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তার দৈনিক আয় ২০ হাজার টাকারও বেশি। দুগ্ধ উৎপাদনের পাশাপাশি আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি ২০টি উন্নত জাতের গরু প্রস্তুত করেছেন, যার প্রতিটির মূল্য এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।
লিটনের খামারে নিয়মিত কাজ করছেন আটজন শ্রমিক।খামারের নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত শ্রমিক নাইম বলেন, “আমরা এখানে গরুর বাচ্চার বিশেষ যত্ন নিই। বাচ্চা জন্মের পর থেকে তাদের মা থেকে আলাদা করে ফিডারে দুধ খাওয়ানো হয়। এক মাস বয়স হলে দুধের পাশাপাশি কাঁচা ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার দেওয়া শুরু করি। এতে গাভী দ্রুত সুস্থ হয় এবং পুনরায় গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেম জানান, লিটনের এই খামার হওয়ার পর থেকে আমাদের এলাকায় খাঁটি দুধের অভাব নেই। অনেক বেকার ছেলেও তার খামার দেখে উৎসাহিত হচ্ছে। এলাকাবাসী হিসেবে আমরা লিটনের এই সাফল্যে গর্বিত।
খামারি কামরুজ্জামান লিটন বলেন, এখানে গরুর প্রধান খাদ্য প্রাকৃতিক ঘাস। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাছুর পালন ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এই খামারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। গরুকে কোনো প্রকার রাসায়নিক খাবার না দিয়ে কাঁচা ঘাস ও খৈল-ভুষি খাওয়ালে খামার লাভজনক হয়। নতুনদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “বিনা প্রশিক্ষণে খামার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ যদি নতুন করে ডেইরি ফার্ম করতে চান, তবে অবশ্যই সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠে নামা উচিত।ভবিষ্যতে নিজের এই স্বপ্নের খামারটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই পরিশ্রমী উদ্যোক্তার।