লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের আহত-১৫

লক্ষ্মীপর প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় জামায়াত-বিএনপির মধ্যকার সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনার পর এলাকায় উত্তোজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনায় ঘটে। তবে রাত ৮টার সময়ও লক্ষরমীপুর সদর হাসপাতালের সামনে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এসময় হাসপাতাল এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ ও ডিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটাল এলাকার মধ্যে ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানাগেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. রেজাউল করিমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপী চরশাহীর বটতলা এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে মহিলা জামাতের সদস্যদেরকে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করে। এসময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলেগিয়ে তাদের বৈঠক করতে বাধা দেয়।পরে উভয়পক্ষের স্থানীয় নেত্রীবৃন্দ বিষয়টি মিমাংসা করার উদ্যোগ নেয়। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা জামাতেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতের আবদুর রহমান,মাওলানা হিজবুল্লাহ সোহেল, সাকিব হোসেন,এমরান হোসেন,শাহাদাত হোসেন খোকন,যুবদল নেতা বোরহান মিয়াজি ও দুলাল হোসেনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপী চরশাহীর বটতলা এলাকায় একটি সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠক শেষ করে ফাতেমা আক্তার হ্যাপী চলে যাওয়ার পর বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকরা বিনা উস্কানীতে জামায়াতের নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে ১৫জন আহত হয়। এদের মধ্যে ৫জনের অবস্থায় গুরুতর। যেখানে প্রার্থীর স্ত্রী নিরাপদ নয়, সেখানে সুষ্ঠভোট আশা করা যায়না। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতারের দাবী জানান তিনি। অপরদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক এডভোকেট হাসিবুর রহমান পাল্টা হামলার অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের চুরিকাঘাত করার অভিযোগও করেন তিনি। এতে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়।
আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে সামনে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে এক পক্ষ অপর পক্ষের উপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) কাজমীর নেতৃত্বে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। হাসপাতাল এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর-সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন,দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫জন আহত। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২৮.০৩°সে