লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা। আসামি ৩৮৭

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। জামায়াতের মামলায় ১৭০ জন ও বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ ও বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর-সার্কেল) মো. রেজাউল হক। তিনি জানান, দুইটি মামলা জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। এর আগে রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানায় এই দুইটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুব বিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৬০ জনকে আসামি করা হয়। একই ঘটনায় চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. রেজাউল করিমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপী চরশাহীর বটতলা এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালায়। এতে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সমর্থকরা বিষয়টি জানতে চান। এনিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি,বাকবিতান্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয়পক্ষ বিষয়টি মিমাংসা করার উদ্যোগ নেয়। এর জের ধরে পূনরায় উভয়পক্ষের মধ্যে হামলা,পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জামায়াতের আবদুর রহমান,মাওলানা হিজবুল্লাহ সোহেল, সাকিব হোসেন,এমরান হোসেন,শাহাদাত হোসেন খোকন,যুবদল নেতা বোরহান মিয়াজি ও দুলাল হোসেনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়।
এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের ৪ টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী আচরণ বিধি নিয়ে অবহিতকরণ সভা ডাকেন। সেখানে চরশাহীর মারামারির ঘটনা আলোচনায় উঠে আসে। এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক উভয়পক্ষকে আচরণ বিধি মেনে চলতে আহবান জানান। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানায়, মহিলা সভার নামে জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এতে বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় জামায়াত।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমাদের মহিলা কর্মীদের প্রোগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এটি মীমাংসা হয়েছিল। এরপরই তারা ফের আমাদের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জামায়াতের লোকজন ভোটারদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করে। ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকে। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে অপরাধ প্রবনতা দেখা দিয়েছে। আমি শুধু বিএনপির আহত নেতাকর্মী নয়, হাসপাতারে জামায়াত নেতাকর্মীদেরও দেখতে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি সুষ্ঠু তদন্ত করে সুন্দর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।

৩১.৬৭°সে