লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মার্চেন্ট একাডেমিতে ভুলসেটে এস এসসি পরীক্ষা
৭৬০ পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে শংকা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি,
এসএসসি পরীক্ষার পঞ্চম দিনে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টসএকাডেমি কেন্দ্রের দ্বিতীয় ভেন্যুতে ভুল সেটে পরীক্ষা নেওযার ঘটনা ঘটেছে।তবে ওই কেন্দ্রের প্রধান ভেন্যুতে সঠিক প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা হয়েছে। ফলে এই ভেন্যুতে পরীক্ষায় অংশ নেওযা ৭৬০ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। ৫মে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে পরীক্ষায় এ ভুলের ঘটনা ঘটেছে। এ কেন্দ্রে ৩ নং সেটের পরিবর্তে ১ নং সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।
জানাযায়, কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এস এসসি বিজ্ঞান বিভাগের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল তিন নম্বর সেটে। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এক নম্বর সেটে। সেখানে মোট ৭৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।
বুধবার ঘটনাটি জানাজানি হলে বোর্ড থেকে শোকজ করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকীকে। তবে তাকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দেওয়ায় ছাত্র ছাত্রী ও অভিবাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তবে প্রশ্নপত্র ভুলের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না দাবি করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকী। তবে এ বিষয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করেননি প্রধান শিক্ষক। ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারে পরীক্ষা শেষে অন্য স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সময়। এরপর থেকেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্র ছাত্রী ও তাদের অভিবাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েন।
পরীক্ষার্থী মিল্লাত হোসেন ও সৌরভ হোসেন বলে, ‘পরীক্ষা দিয়ে বাসায় যাওয়ার পর প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করার সময় বুঝতে পারি যে আমরা অন্য সেটে পরীক্ষা দিয়েছি।
এই ঘটনাকে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা বলে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবীর উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে না দাবি করে কবীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই সেটের প্রশ্ন অনুসারেই শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষার খাতা অন্য সব খাতার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ওই কেন্দ্রের খাতাগুলো আলাদা করা এখন আর সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
অসাবধানতার কারণে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকী। তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য একটি ফ্লোরের সিসিটিভি সংক্রান্ত জটিলতা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন মেছের আহমেদ নামের আরেকজন শিক্ষক। কিন্তু নিয়ম অনুসারে কেন্দ্র সচিবেরই প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে পরীক্ষার কেন্দ্রে বস্তাবন্দি করে দুটি পৃথক সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের জন্যও কেন্দ্রে ‘এক’ এবং ‘তিন’ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল। এরপর পরীক্ষার আগে মোবাইল ফোনে নির্ধারিত সেটের বার্তা আসার পর সেই সেটের প্রশ্নের বস্তা খোলার কথা কেন্দ্র সচিবের।
সেদিনও কেন্দ্র সচিবের মোবাইল ফোনে ‘তিন’ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। কেন্দ্র সচিব এসএমএসটি দেখে এক নম্বর সেটের বস্তাটি আলাদা করেন। কিন্তু বস্তাটি খোলেন আরেক শিক্ষক মেছের আহমেদ।
মেছের আহমেদ বলেন, ‘দুটি বস্তা পাশাপাশি থাকায় ভুলেই এক নম্বর সেটের বস্তাটি আমি দুজন সহকর্মীর উপস্থিতিতে খুলে বিতরণ করি। কেন্দ্র সচিব তখন সিসিটিভি সংক্রান্ত একটি সমস্যা সমাধানে অন্য কক্ষে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে আসার পর আমাদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র বিতরণে অংশ নেন।’
প্রশ্নপত্র খোলা হয়েছে দেখে আর সেটের বিষয়টি যাচাই করার চিন্তা মাথায় আসেনি বলে দাবি করেন কেন্দ্র সচিব। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নের বস্তা আমারই খোলার কথা। কিন্তু পরীক্ষার সময় হয়ে আসায় তারা খুলে ফেলেছে। আমি কাউকে নির্দেশনা দিইনি, তবে কেন্দ্র সচিব হিসেবে এই দায় আমার ওপরই বর্তায়। পরবর্তীতে প্রশ্নের সেটটি আমার যাচাই করা উচিত ছিল।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম এবং রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন দাশ বলেছেন, “আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”